রোবটিক্স কী এবং রোবটিক্স সম্পর্কে বিস্তারিত

একটা সময় ছিলো যখন শুধুমাত্র হলিউড, বলিউড সহ কিছু সিনেমায় আমরা রোবটের দেখা পেতাম। কিন্তু দিন পাল্টে গেছে, প্রতিনিয়ত উন্নত হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। আজকের দিনে শুধু আর সিনেমাতে নয়, বরং বাস্তবেও দেখা মিলছে নানা রকম রোবটের। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা রোবটিক্স কী এবং এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবো। তবে রোবটিক্স কী, সে সম্পর্কে জানার আগে আমাদেরকে জানতে হবে রোবট কী? তো চলুন, কথা না বাড়িয়ে রোবট ও রোবটিক্স সম্পর্কে জেনে নেয়।

রোবটিক্স কী এবং রোবটিক্স সম্পর্কে বিস্তারিত

রোবট কী? (What is Robot?)

ডিকশনারীর মতে,

রোবট হচ্ছে একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, যা মানুষ যেভাবে কাজ করে সেভাবে কাজ করতে পারে অথবা এর কাজ দেখে মনে হয় এর নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা রয়েছে।

রোবট (Robot) শব্দের উৎপত্তি হয়েছে রোবটা (Robota) থেকে। শব্দটা সর্বপ্রথম ব্যবহার করেছিলেন চেক লেখক, ক্যারেল ক্যাপেক। রোবটা শব্দের আবিধানিক অর্থ ছিলো দাস বা দাসী, যা বর্তমানে রোবট শব্দ দ্বারা একই ধরনের অর্থ বোঝায়।

বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক জনপ্রিয় রোবটগুলো হলো আইবো, মুরাতা বয়, আসিমো ইত্যাদি যেগুলো অনেকটা মানুষের মতোই কাজকর্ম করতে পারে।

কম্পিউটার প্রোগ্রাম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত যান্ত্রিক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন মেশিনকে রোবট বলা হয়। অর্থাৎ রোবট যে সবসময় মানুষ বা অন্যকোন প্রাণীর আকৃতির হবে বিষয় তেমন নয়। রোবট এর উদ্দেশ্য অনুযায়ী নানা রকম হতে পারে, রোবট কয় প্রকার সেটা আমরা একটু পরেই আলোচনা করবো। এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা থেকে আশা করি রোবট সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন। তাহলে এবার চলুন, রোবটিক্স কী এবং এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

রোবটিক্স কী? (What is Robotics?)

রোবটিক্স শব্দের উৎপত্তি হয়েছে মূলত রোবট শব্দ থেকেই। প্রযুক্তির যে শাখায় রোবটের নকশা, নির্মাণ, কার্যক্রম ও মানোন্নয়ন নিয়ে কাজ করা হয় তাকে রোবটিক্স বলে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, রোবট ডিজাইন করা, গঠন তৈরি করা, বাস্তবে এর প্রয়োগ ঘটানো এবং এর মান উন্নয়ন বিষয় কাজ বিজ্ঞানের যে শাখায় করা হয় তাকে রোবটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বলে।

রোবটের কয়টি উপাদান থাকে?

একটি রোবটের সাধারণত ৫টি উপাদান থাকে। সেগুলো হলো-

  • কৃত্রিম মস্তিষ্ক
  • পাওয়ার প্রোভাইডার
  • সেন্সর বা কৃত্রিম অনুভূতি
  • ম্যানিপুলেশন
  • অ্যাকচুয়েটর

কৃত্রিম মস্তিষ্কঃ এটি হলো একটি রোবটের মূল উপাদান। রোবট পরিচালিত হয় কম্পিউটার প্রোগ্রাম ব্যবহার করে তৈরিকৃত নির্দেশনার মাধ্যমে। এই নির্দেশনা থাকা ডেটা বা তথ্য অনুযায়ী রোবটটি আউটপুট প্রদান করে। কোন রোবটের জন্য নির্দেশনা তৈরি করা বেশ সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য কাজ।

পাওয়ার প্রভাইডারঃ রোবটে সংযুক্ত যন্ত্রপাতি সচল রাখতে প্রয়োজন একটি উন্নত ও সুষম বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, যেটা এই উপাদানের মাধ্যমে সমাধান করা হয়। চলনশীল রোবটগুলো সাধারণত ব্যাটারিচালিত হয়ে থাকে, আর এতে ব্যবহার করা হয় রিচার্জেবল ব্যাটারি যাতে একাধিকবার ব্যবহার করা যায়।

সেন্সরঃ রোবটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো এর সেন্সর যেটা মানুষের অনুভূতির ন্যায় কাজ করে। রোবট যেন কোন স্থান স্পর্শ করে সে জায়গা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে তার জন্য ব্যবহার করা হয় এই বিশেষ ধরনের সেন্সর বা কৃত্রিম অনুভূতি।

ম্যানিপুলেশনঃ রোবটের ম্যানিপুলেশন হলো এর আশেপাশের নির্দিষ্ট বস্তুকে পরিবর্তন করার জন্য ব্যবহৃত উপাদান। মানুষ সহ অন্যান্য প্রাণীদের মত দেখতে রোবটগুলোতে হাত, পা, চোখ ইত্যাদি কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও অন্যা রোবটেও এই ধরনের একই ধরনের উপাদান অন্য উপায়ে ব্যবহার করা হয়।

অ্যাকচুয়েটরঃ রোবটের হাত-পা বা বিশেষভাবে তৈরি অন্যান্য কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নাড়াচাড়া করানোর জন্য অ্যাকচুয়েটর নামক উপাদানটি ব্যবহার করা হয়। এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বিশেষভাবে ডিজাইনকৃত মোটর ব্যবহার করা হয় যেগুলো একে-অপরের সাথে সামঞ্জস্যতা রেখে পরিচালিত হতে পারে।

রোবট কয় প্রকার?

রোবট সাধারণত অনেক প্রকার হয়ে থাকে, এর নির্দিষ্ট কোন সীমাবদ্ধতা নেই। প্রতিনিয়ত নানাধরনের রোবট আকিষ্কৃত হচ্ছে। রোবটের প্রকারভেদ হলো-

  • স্পেস রোবট
  • সেবামূলক রোবট
  • শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত রোবট
  • সামরিক রোবট
  • মাইনিং রোবট ইত্যাদি

স্পেস রোবটঃ প্রায় সব ধরনের মহাকাশ বিষয়ক কাজে রোবট ব্যবহার করা হয়। এতে মানুষের জীবনের ঝুকি কমে এবং সুক্ষাতিষুক্ষ তথ্য পাওয়া যায়। ১৯৬০ সালের দিকে সর্বপ্রথম মহাকাশ অভিযানে রোবটের ব্যবহার শুরু হয়েছিলো। প্রতিনিয়ত এর ব্যবহার বেড়েই চলেছে।

আরও পড়ুনঃ মোবাইল নেটওয়ার্ক কিভাবে কাজ করে?

সেবামুলক রোবটঃ বিশ্বে দিন দিন সেবামূলক রোবটের চাহিদা বাড়ছে। সেবামুলক রোবট বলতে বুঝায় গৃহস্থালির কাজ-কর্ম সম্পাদনকারী, রেস্টুরেন্ট সহ অন্যান্য স্থানে মানুষের পরিবর্তে কাজ করা। এখন অনেক বাসা-বাড়িতে ও রেস্টুরেন্টে এধরনের সেবামূলক রোবটের ব্যবহার লক্ষ করা যাচ্ছে।

শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত রোবটঃ শিল্পকারখানায় নানারকম বিপজ্জনক কাজে রোবট ব্যবহার করা হয়। যেসব কাজ মানুষের জন্য ঝুকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য এগুলো সম্পাদনের জন্য রোবট ব্যবহার করা হয়। মানুষের পরিবর্তে রোবট ব্যবহার করলে এক দিকে যেমন কাজের গতি বৃদ্ধি পায় ও নিখুঁত হয় তেমনি বেকারত্বের সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়।

সামরিক রোবটঃ তৃতীয় বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে সামরিক কাজকর্মে মানুষের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রেই রোবট ব্যবহার করা হয়। অনেক দেশে রোবট দ্বারা সামরিক বাহিনী গঠন করা হয়েছে শত্রু বাহিনীকে মোকাবিলা করার জন্য। 

মাইনিং রোবটঃ মাইনিং রোবটগুলো খনিশিল্পে বিরাট ভূমিকা রাখছে। মাইনিং রোবটগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে এগুলো খনি থেকে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ষুক্ষ্মভাবে খনিজ সম্পদ তুলতে সক্ষম হয়। মাইনিং রোবটের কারণে শিল্পে গতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন