মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার উপায় | মোবাইলে টাকা আয়

মোবাইলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়? মোবাইলে টাকা ইনকাম করার উপায় দেখিয়েছি এই ব্লগে

আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন সবাই? আপনি নিশ্চয় তো একজন মোবাইল ইউজার? কিন্তু আপনি কি জানেন, কিভাবে মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করা যায়? জানেন না, তাই তো? কোন সমস্যা নেই। আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা জানবো, মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার উপায়।

মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার উপায়

আমাদের বাংলাদেশ একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত দেশ। বেকারত্ব একটি বড় সমস্যা ও সংকট আমাদের এই ছোট অথচ বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দেশে। আমরা অনেকেই জানতে চায়, মোবাইল দিয়ে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায়, মোবাইলে আয় করার উপায় কি? কিন্তু সঠিক তথ্য ও দিকনির্দেশনার অভাবে বুঝতে পারি না মোবাইল দিয়ে ইনকাম করার সহজ উপায় কোনটি।

আজকে এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাদের সাথে এমন কয়েকটি সহজ, সঠিক এবং কার্যকরী উপায় শেয়ার করবো যেগুলো আপনারা চেষ্টা করলে প্রতি মাসে ভালো পরিমাণ টাকা আয় করতে পারবেন মোবাইল দিয়েই। তো চলুন মোবাইলে কিভাবে টাকা আয় করা যায় সে উপায়গুলো ও তার সম্বন্ধে সঠিক তথ্যগুলো জেনে নেয়।

ব্লগিং করা

ব্লগিং একটি স্মার্ট এবং মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার তুলনামূলক সহজ পদ্ধতি। আপনি মোবাইল ফোন দিয়েই ফ্রিতে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। কিভাবে ফ্রিতে ওয়েবসাইট তৈরি করা সেই আর্টিকেলটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার সময় আপনি আর্টিকেলের বিষয় পছন্দ করুন, অর্থাৎ আপনি যে বিষয়ে আর্টিকেল লিখতে চান। সুন্দর ও চমকপ্রদ তথ্য দিয়ে আপনি অনেকগুলো আর্টিকেল লিখে আপনার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করে গুগল অ্যাডসেন্স সহ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করতে পারেন।

এতে আপনার কম্পিউটারে প্রয়োজন নেই, মোবাইলেই এখন এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখে আয় করা যায়।

আরও পড়ুনঃ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়

ইউটিউব ভিডিও বানানো

ইউটিউব হচ্ছে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট। এখানে প্রায় সবধরনের ভিডিও পাওয়া যায়। আপনি যদি জিজ্ঞেস করেন, কিভাবে মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করা যায়? তাহলে আমি উত্তরে বলবো, মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করার একটি ভালো উপায় হলো ইউটিউব ভিডিও বানানো। 

বর্তমানে অনেকে স্টুডেন্ট অবস্থায় অনলাইনে টাকা আয় করার উপায় হিসেবে ইউটিউবকে বেছে নিয়েছে। আপনি ফানি ভিডিও বানাতে পারেন, টেক টিউটোরিয়াল বানাতে পারেন, এছাড়াও আরো অনেক টপিক আছে ইউটিউবে ভিডিও বানানোর। আপনি যদি ভালো কোয়ালিটির ভিডিও বানান এবং ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজ করান তাহলে প্রতিমাসে ৩০০০০-১০০০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন শুধু মোবাইল দিয়েই।

সরঞ্জাম হিসেবে শুধু আপনার একটি ভালো ক্যামেরা-ওয়ালা ফোন থাকলেই যথেষ্ট ইউটিউবে ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য। মোবাইলে অনেক জনপ্রিয় এবং পাওয়ারফুল ভিডিও এডিটিং অ্যাপ রয়েছে। সেগুলো দিয়ে সহজেই অনেক সুন্দর ভিডিও এডিট করতে পারবেন।

ফেসবুক ভিডিও বানানো 

আপনি যদি আমাকে তৃতীয় বারের মতো জিজ্ঞেস করেন, কীভাবে মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করা যায়? তার উত্তরে আমি বলবো, ইউটিউবের মতো ফেসবুকেও ভিডিও বানান। আপনি যদি ভিডিও ক্রিয়েটর হিসেবে কাজ শুরু করতে চান তাহলে আপনার ইনকাম বেশি হবার সম্ভাবনা বেশি।

ধরুন আপনি, ইউটিউবে ফানি ভিডিও বানান। আপনি চাইলে সেই ভিডিওগুলো আপনার ফেসবুক পেইজেও আপলোড করতে পারেন। ইউটিউবের চেয়ে ফেসবুকে ভিডিও ভাইরাল হয় বেশি এবং অনেক দ্রুত ফেসবুক ভিডিও ভাইরাল হয়। প্রথম কয়েক মাস হয়তো ভিডিও ভাইরাল হবে না, কিন্তু ৩/৪ মাস অপেক্ষা করলেই দেখবেন ধীরে ধীরে ভালো রকম ভিউ হচ্ছে আপনার ভিডিওতে। একবার ভিডিও ভাইরাল হলে তারপর থেকে অনবরত ভিউস আসতেই থাকবে।

ইউটিউবের মতো ফেসবুক পেইজে ভিডিও আপলোড দিয়ে পেইজ মনিটাইজ করা যায়। এভাবে আপনি ফেসবুক পেইজ থেকে টাকা আয় করতে পারেন। তাছাড়াও আরো কয়েকটি উপায় আছে ফেসবুক থেকে মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার। সেটা জানতে নিচের আর্টিকেলটি পড়তে পারেন।

আরও পড়ুনঃ ২০০০০ টাকার মধ্যে সেরা ৫টি ফোন

প্রোডাক্ট রিসেলিং

মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার আরেকটি অন্যতম কার্যকরী উপায় হলো রিসেলার হিসেবে কাজ করা। আপনাদের মনে হয়তো প্রশ্ন থাকতে পারে যে, প্রোডাক্ট রিসেলিং কি? প্রোডাক্ট রিসেলিং হলো কোন একটা কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের প্রোডাক্ট বিক্রি করে দেয়া। এর বিনিময়ে সেই কোম্পানি আপনাকে কমিশন দিবে। চলুন প্রোডাক্ট রিসেলিং কাজটা কি বুঝিয়ে বলি।

ধরুন আপনি একটা কোম্পানিতে রিসেলার হিসেবে যোগ দিতে চাচ্ছেন। আপনি সেই কোম্পানির প্রোডাক্টগুলোর ছবি, ডেস্ক্রিপশন ইত্যাদি ডাউনলোড করে নিবেন। ওই প্রোডাক্টের যে মূল্যটা থাকবে আপনাকে সেটার চেয়ে বেশি মূল্যে পণ্যটা বিক্রি করতে হবে। আপনি যত বেশি মূল্যে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন পনার মুনাফা ততটাকা। আবার আরেকটা নিয়ম থাকতে পারে।

ধরুন, আপনি যেই পন্যটা বিক্রি করতে চান সেটার মূল্য দেয়া আছে ১০০০ টাকা। এবং সেটি বিক্রি করলে কমিশন পাবেন ৫%। তাহলে আপনি যদি সেই পণ্যটি বিক্রি করতে পারেন তাহলে আপনার মুনাফা হবে ৫০ টাকা। এভাবেই প্রোডাক্ট রিসেল করে মূলত মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করা যায়।

ফ্রিল্যান্স আর্টিকেল রাইটিং

আমাদের আজকের তালিকায় মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার ৫ম উপায় হলো ফ্রিল্যান্স আর্টিকেল রাইটিং। ফ্রিল্যান্স আর্টিকেল রাইটিং আর ব্লগিং এক বিষয় না। তবে ফ্রিল্যান্স আর্টিকেল রাইটিং হলো ব্লগিংয়ের একটি অংশ।

ব্লগিং হলো কোন একটা ওয়েবসাইট বা প্লাটফর্মে নিয়মিত লেখালেখি করা আর ফ্রিল্যান্স আর্টিকেল রাইটিং কাজটা হলো কোন একটা ওয়েবসাইট বা কোম্পানির জন্য আর্টিকেল লিখে দেয়া, যখন সেই কোম্পানির আর্টিকেল প্রয়োজন হবে তখন সে আপনাকে হাইয়ার করবে। প্রতিটি আর্টিকেলের বিনিময়ে আপনি চার্জ ধার্য করবেন।

অর্থাৎ এটা একটা খন্ড কাজ। আপনি সবসময় যে কাজ পাবেন সেরকম না, আবার আপনাকে যে কাজটা করতেই হবে বাধ্যতামূলক না।

আরও পড়ুনঃ কীভাবে ব্লগিং শুরু করে ডলার আয় করবেন

এই ছিলো আমাদের আজকের আর্টিকেল। কিভাবে মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করা যায় তার ৫টি উপায় নিয়ে আমরা ইতমধ্যে আলোচনা করে ফেলেছি। আপনি যে সেক্টরটাই বেছে নেন না কেন, আপনাকে অবশ্যই সেই কাজে লেগে থাকতে হবে। অনেক ধৈর্যের প্রয়োজন হবে। আশা করি আজকের লেখাটি আপনাদের ভালো লেগেছে। যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে তা কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

টেক বিষয়ক সমস্যার সমাধান পেতে ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হোন
মন্তব্য লিখুনবন্ধ করুন

3 মন্তব্য

Cancel